জার্মানিতে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ-১ (ডয়েচে ভেলের সাথে সাক্ষাতকার)

জার্মানিতে উচ্চ শিক্ষা, গবেষনা, চাকরির সুযোগ-সুবিধা গুলো নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে কিছু লেখার ইচ্ছে আছে। প্রথম পর্বে সম্প্রতি ডয়েচে ভেলে (জার্মান রেডিও) এর ক্যাম্পাস অনুষ্টানে মারিনা জোয়ার্দার সাথে আমার সাক্ষাতকারটির টেক্স ও ওডিও শেয়ার করলাম

এরলাঙ্গেন নুরেমবার্গ (Erlangen-Nuremberg) বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ নাম ফ্রেডরিশ আলেকজ্যান্ডার ইউনিভার্সিটি অব এরলাঙ্গেন-নুরেমবার্গ । গবেষণা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয় সাফল্যের পরিচয় রেখে চলেছে। নুরেমবার্গে রয়েছে সব মিলে ২৬ হাজার ছাত্রছাত্রী, ১২০০ ষ্টাফ, ৫৫০ অধ্যাপক, ২৪ টি ক্লিনিক সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান এবং বেশ কিছু ইউনিট। রয়েছে ৫ টি অনুষদ এবং এই অনুষদ গুলোর অধীনে ২২ টি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়াশুনার সুযোগ দিচ্ছে এরলাঙ্গেন-নুরেমবার্গ ইউনিভার্সিটি। এসব বিষয় নিয়ে উচ্চ শিক্ষা যেমন মাস্টার্স, পিএইচডি এবং পোষ্ট ডক্টরেট করা যায়। সারা বিশ্বে নুরেমবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে প্রায় ৫০০ পার্টনার বিশ্ববিদ্যালয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয় ৬২ টি বিভিন্ন দেশে অবস্থিত। গবেষণার জন্য রয়েছে আরো ১৩০ টি সহযোগী সংস্থা। বলা প্রয়োজন অন্যান্য দেশ থেকে প্রতিনিয়ত আমন্ত্রিত অধ্যাপকরা (guest professor) আসছেন নুরেমবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা কথা বলেছি এরলাঙ্গেন-নুরেমবার্গ ইউনিভার্সিটির একজন বাংলাদেশী ছাত্র ড. মোকাররম হোসেনের সঙ্গে। নুরেমবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পিএইচডি শেষ করে এখন পোষ্ট ডক্টরেট করছেন। ড. মোকাররম হোসেন, ডয়েচভেলে (Deutsche Welle) বন (Bonn) স্টুডিও থেকে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।

ডয়েচে ভেলে স্টুডিওঃ আপনার কাছে আমাদের প্রশ্ন জার্মানিতে পড়তে আসা বা জার্মানিতে পড়তে আসা যায় এই তথ্যগুলো আপনি কিভাবে পেলেন অথবা জার্মানিকেই বা কেন আপনি বেছে নিলেন পড়াশুনার জন্য?

ড. মোকাররম হোসেনঃ ২০০১ সালে অক্টোবরে ঢাকাতে জার্মান কালচারাল সেন্টার (German Cultural Center/Goethe Institute) বেশ বড় একটি শিক্ষা সেমিনারের আয়োজন করে। পত্রিকায় ওদের বিজ্ঞাপন দেখে আমি এটেন্ড করি। ওখানে জার্মানিতে ইঞ্জিনিয়ারের উপর হায়ার স্টাডি তথ্য সমৃদ্ধ একটি বুকলেট পেয়ে যাই। সেই বুকলেট থেকেই মূলত আমার কাঙ্খিত সাবজেক্ট যেসব ভার্সিটিতে আছে সেগুলোর ইমেইল এবং ওয়েব এড্রেস লিষ্ট তৈরি করি। টানা ৫/৬ মাস চেষ্টায় ২০০২ এপ্রিলে দুইটি ইউনির্ভাসিটিতে চান্স পাই। এভাবে মূলত জার্মানিতে আসা। আসার পেছনে মূল কারনটা ছিল জার্মানিতে বেশীর ভাগ ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া ফ্রি। ফ্রি অফ কষ্ট (Free of Cost)। টিউশনি ফি নেই বললেই চলে। এটাই ছিল মূল মটিভেশন।

ডয়েচে ভেলে স্টুডিওঃ আপনি জার্মানিতে মাস্টার্স করেছেন, পিএইচডি করেছেন। ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় নিয়ে যদি কেউ পড়তে চায় তাহলে জার্মানিতে সুযোগ সুবিধা কেমন?

ড. মোকাররম হোসেনঃ আমি বলবো জার্মানিতে একচুয়ালি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংসহ অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে ছাত্রদের জন্য গবেষণা বা জব (Job) করার জন্য একটা পারফেক্ট ফিল্ড। মেকানিক্যাল বা অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের ছাত্রদের জন্য সাবজেক্ট নির্ধারণে বেশ কেয়ারফুল হতে হবে। আপনার টার্গেট যদি হয় শুধু মাস্টার্স বা পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরে যাওয়া তাহলে যেকোন সাবজেক্ট আপনি চয়েচ করতে পারেন। আর যদি মাস্টার্স শেষ করে পিএইচডি করতে চান বা জব করতে চান তাহলে ট্রেডিশনাল সাবজেক্ট চয়েস না করে যুগোপযোগী সাবজেক্ট যেমন সিভিল বা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রদের জন্য কম্পিউটেশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং (Computational Engineering) বা কম্পিউটেশনাল সায়েন্স(Computational Science), মেকানিক্যালের জন্য মেক্যাট্রনিক্স (Mechatronics), রোবটিক্স (Robotics), এসব এডভ্যান্সড সাবজেক্টে পড়তে পারেন। এসব সাবজেক্ট মূলত একটু কঠিন হলেও পিএইচডি তে স্কলারশীপ পাওয়া বা কোম্পানিতে জব পাওয়া বেশ সহজ।

ডয়েচে ভেলে স্টুডিওঃ আমাদের শেষ প্রশ্ন, বাংলাদেশী বা ভারতের যেসব ছাত্রছাত্রীরা জার্মানিতে পড়তে আসতে চান তাদের জন্য আপনি কি বলবেন?

ড. মোকাররম হোসেনঃ প্রথমে আপনাকে টার্গেট নির্ধারণ করতে হবে। নিজেকে বারবার জিজ্ঞাসা করুন যে আসলে আপনি বিদেশে আসার ব্যাপারে সিরিয়াস কিনা। সত্যিই যদি সিরিয়াস হয়ে থাকেন তাহলে একটা প্লান করুন, ডিটেইলস প্লান করুন। নিয়মিত ইন্টারনেট ব্রাউজে সময় দিন। ইন্টারনেটেই আপনার সবচেয়ে বড় তথ্যদাতা। কোনো মিডিয়াতে যোগাযোগ করার দরকার নেই। ইন্টারনেটে সার্চ করা, সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা উপমহাদেশের ছাত্ররা, বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার ছাত্ররা বেশ পিছিয়ে আছে। নেট সার্চ করে আপনার কাঙ্খিত দু তিনটি সাবজেক্ট যেসব ভার্সিটিতে আছে তাদের ইমেইল, ওয়েব এ্যাড্রেসের একটা তালিকা করুন। দেখুন তারা কি কি যোগ্যতা চায়। সে অনুযায়ি নিজেকে প্রিপেয়ার করুন। টোফেল (TOEFL) বা আইইএলটিএস (IELTS) দিয়ে দিন। CV টা সুন্দর করে তৈরি করুন। সার্টিফিকেট, মার্কশিট এগুলো স্ক্যান করে আপনার লিষ্ট অনুযায়ী বিভিন্ন ভার্সিটির ইমেইলে পাঠিয়ে দিন। আশা করা যায় আপনি আপনার কাঙ্খিত সাবজেক্ট পেয়ে যাবেন।

ডয়েচে ভেলে স্টুডিওঃ ড. মোকাররম ডয়েচেভেলেকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ড. মোকাররম হোসেনঃ আপনাকেও ধন্যবাদ। ধন্যবাদ ডয়েচেভেলেকেও
মারিনা জোয়ার্দার ডয়েচেভেলে রেডিও
ধন্যবাদ পাবেন: ড. মোকাররম হোসেন

Advertisements